Monday, 29 August 2016

ঘুষ দিতে হবে আধিকারিককে। আম্মার রাজত্বেভিক্ষা করছে মৃত কৃষকের ছেলে অজিত

মৃত কৃষকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে ঘুষ চেয়েছিলেন সরকারি আধিকারিক। তা জোগাড় করতে ভিক্ষা করতে হল মৃতের ছেলেকে।
‘আম্মা’ জয়ললিতার রাজ্য তামিলনাড়ুর ভিল্লাপুরম জেলার এম কুন্নাথুর গ্রামের ঘটনা। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান কোলানজি নামে এক দরিদ্র কৃষক। রাজ্য সরকারের ‘কৃষক সামাজিক সুরক্ষা’ প্রকল্প অনুযায়ী দরিদ্র কৃষকের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই টাকা মঞ্জুর হতেই পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় দেড় বছর।

ক্ষতিপূরণের জন্য গত বছর থেকেই প্রশাসনিক দফতরের দরজায় দরজায় ঘুরেছে মৃতের ১৫ বছরের ছেলে অজিত। তার অভিযোগ, সুব্রহ্মণ্যন নামে এক আধিকারিক শেষমেশ জানিয়ে দেন, ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে গেলে তিন হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে। 
অজিতের কথায়, ‘‘হকের টাকা চাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওই অফিসার সাফ জানিয়ে দেন— আগে তিন হাজার টাকা টেবিলে রাখো, তারপর তোমাদের চেক তৈরি করা হবে।” অজিত আরও জানায়, সংসারের বেহাল অবস্থা, দু’বেলা খাবার জোগাড় করাই মুশকিল। তার উপর বাবার শেষকৃত্যের জন্য অনেক টাকা ধার হয়ে গিয়েছে। ক্ষতিপূরণের টাকা পেলে ধার মেটানো যেত। এই পরিস্থিতিতে তিন হাজার টাকা সে কীভাবে জোগাড় করবে?
অনেক চেষ্টা করেও ঘুষের টাকা জোগাড় করতে পারেনি নাবালক অজিত। শেষপর্যন্ত ভিক্ষার পথ বেছে নেয় সে। শুভানুধ্যায়ীদের পরামর্শে তৈরি করা হয় একটি ব্যানার। তাতে তামিলে লেখা, ‘বাবার শেষকৃত্যের জন্য বেশ কিছু টাকা ধার হয়ে গিয়েছে। সেই টাকা শোধ করতে পারছি না। বাবার মৃত্যুর ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার জন্য তিন হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছে। সকলের কাছে সাহায্য চাইছি’।
ওই ব্যানার নিয়ে ভিক্ষা চাওয়ার ছবি এবং ভিডিও নেটদুনিয়ায় ‘ভাইরাল’ হয়ে যাওয়ার পর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুব্রহ্মণ্যনকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 
রাজস্ব দফতরের আধিকারিক সাথামরাই বলেন, ‘‘কোলানজির স্ত্রী বিজয়ার নামে চেক তৈরি করা হয়েছিল। মৃতের ছেলে নাবালক হওয়ায় তার হাতে ওই চেক দেওয়া হয়নি। তবে ওই পরিবার যাতে তাড়াতাড়ি টাকাটা পায়, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

No comments :
Write comments

Popular Posts