সিঙ্গাপুরে বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের খবর আসার পর সেখানে অন্তত ১০ বাংলাদেশি মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে হাই কমিশন।
সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাই কমিশনার মাহবুব উজ জামান বৃহস্পতিবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ পর্যন্ত যাদের শরীরে জিকা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমাদের জানিয়েছে।”
তিনি জানান, আক্রান্তদের সবার ক্ষেত্রেই রোগের লক্ষণ দেখা গেছে মৃদু মাত্রায়। তারা হয় ইতোমধ্যে সেরে উঠেছেন, নয়তো সেরে উঠছেন।
মাহবুব উজ জামান জানান, রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে তাদের পরিচয় সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ হাই কমিশন এ বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি।
গত বছর ব্রাজিল ও আশেপাশের দেশগুলোতে জিকার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর এ বছর ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জিকার কারণে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।
এর তিন মাসের মাথায় সিঙ্গাপুরে প্রথম জিকা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী করা শনাক্ত হয়। ৪৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ব্রাজিল ভ্রমণে গিয়ে ভাইরাসে আক্রান্ত হন।
গত শনিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক মালয়েশীয় নারীর সিঙ্গাপুরে এসে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এক বিবৃতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তারা ১১৫ জনের শরীরে জিকা ভাইরাসের উপস্থিতি পেয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আসা নির্মাণ শ্রমিক। আক্রান্ত সবাই সিঙ্গাপুরের একই অঞ্চলের বাসিন্দা বা একই এলাকায় কাজ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল বলছে, সিঙ্গাপুরের জিকা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটায় শহরটিকে তারা গর্ভবতী নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকায় যুক্ত করেছে।
জিকার লক্ষণ
>> প্রতি পাঁচজন রোগীর মধ্যে একজনের মধ্যে হালকা জ্বর, চোখে লাল হওয়া বা কালশিটে দাগ পড়া, মাথা ব্যথা, হাড়ের গিঁটে ব্যথা ও চর্মরোগের লক্ষণ দেখা যায়।
>> বিরল ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি গিলিয়ান-ব্যারি সিনড্রোমেও ভুগতে পারেন; এর ফলে সাময়িক পক্ষাঘাত কিংবা ‘নার্ভাস সিস্টেম ডিজঅর্ডারের’ মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
>> গর্ভবতী মা মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হলে তার অনাগত শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হতে পারে, মস্তিষ্কের গঠন থাকতে পারে অপূর্ণ। এ রোগকে বলে মাইক্রোসেফালি।
>> এ ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম ও বেশি করে তরল খাবার খেতে পরামর্শ দেয়া হয়।
|

No comments :
Write comments