Tuesday, 17 October 2017


‘ওয়ালশ তাঁর দায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করছেন’
শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেই নির্বিষ বোলিং নয়, এ বছর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলারদের সাফল্যও কিন্তু বলার মতো নয়। বোলারদের এই ব্যর্থতায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের ভূমিকা নিয়ে। ছাত্ররা কি ঠিকঠাক শিখতে পারছেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তির কাছ থেকে? বোলার কিংবা ওয়ালশের হয়ে প্রশ্নটার উত্তর দিয়েছেন তামিম ইকবাল। 
গত সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওয়ালশের বড় সাফল্য কী, সেটি বলা কঠিনই। বাংলাদেশ দলের পেস বোলিংয়ের খেরোখাতাটা যদি খোলা হয়, সেখানে তাঁর ছাত্রদের ব্যর্থতার চিত্রই বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকায় এখনো সফল হতে পারেননি মাশরাফি-তাসকিনরা। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে বোলিং কোচের সঙ্গে কাজ করা হয় না তামিমের। তবে কাছ থেকেই দেখা হয় ওয়ালশের ক্লাস।
ওয়ালশের চেষ্টার কোনো ঘাটতি দেখছেন না তামিম, ‘ওয়ালশ যে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন, সেটা বিরাট ব্যাপার। আমরা জানি, তিনি খেলোয়াড়ি জীবনে কী করেছেন। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর সঙ্গে আমার কাজ করার সুযোগ হয় কম। তবে যতটুকু দেখি, বুঝি, তিনি তাঁর দায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, দিন শেষে কে কতটা সেটা কাজে লাগাচ্ছে। আমার কাছে দুনিয়ার সব পরিকল্পনা থাকতে পারে। যদি সেটা কাজে না লাগাই, তবে কাউকে দোষ দেওয়ার পক্ষে আমি নই।’ 
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বোলারদের পারফরম্যান্স হতাশ মুশফিকুর রহিম রাখঢাক না রেখেই সতীর্থ বোলারদের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। সংবাদমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা। এই দুঃসময়ে বোলাররা পাশে পাচ্ছেন তামিমকে। বাঁহাতি ওপেনার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই বোলাররাই বাংলাদেশ এনে দিয়েছেন কিছু স্মরণীয় জয়, ‘সংবাদ সম্মেলন কিংবা অন্যান্য মিডিয়াতে বোলারদের নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। হওয়াটাই স্বাভাবিক। তারা ভালো খেলেনি। তবে ভুলে গেলে চলবে না, গত দুই বছরে আমাদের সাফল্যের পেছনে পেস বোলিংয়ের বড় অবদান আছে। মোস্তাফিজ ভারত সিরিজে (২০১৫) বেশি আলোচিত ছিল। আমি মনে করি, তাসকিনও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রুবেলের বোলিং—এসব আমরা যেন না ভুলে যায়। আমি পাঁচ-সাত ম্যাচ খারাপ করলে আমাকে নিয়েও কথা হবে। তবে গত পাঁচ-সাত বছর কী করেছি, সেটা যেমন মানুষ ভুলবে না, ওদের (বোলার) ব্যাপারটাও ভোলা উচিত নয়। কাল অথবা পরের সিরিজে তারা ঘুরে দাঁড়াবে।’ 
ওয়ানডেতে উইকেট প্রাপ্তিতে এ বছর বাংলাদেশ আছে ১২ নম্বরে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর এবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও একটা উইকেটের জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাংলাদেশের বোলারদের। স্বাভাবিকভাবেই কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে পেসারদের। তামিমের অনুরোধ, সবাই যেন পেসারদের পাশে দাঁড়ায়, ‘দুই-একটা ম্যাচ বা একটা সিরিজ দেখে এত আলোচনা না করাই ভালো। সবাই তরুণ (বোলাররা)। এই সিরিজে যদি ভালো না করে তবে শিক্ষা নিয়ে পরের সিরিজে ভালো করবে। ভালো করছে না বলে সংবাদমাধ্যম-খেলোয়াড়—সবাই যদি ওদের দোষ দিই, তাহলে তারা ভালো করতে পারবে না। তাদের সমর্থন দিতে হবে আমাদের। ওদের ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আছে।’ 
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ছিলেন না সাকিব আল হাসান। তবে প্রথম ওয়ানডেতে ফিরেই বাজে বোলিং করেছেন। শুধু এই ম্যাচ কেন, ওয়ানডেতে সাকিবের দুর্দান্ত বোলিং দেখা যাচ্ছে না অনেক দিন ধরে। বাঁহাতি অলরাউন্ডার ওয়ানডেতে সর্বশেষ উইকেট পেয়েছেন সেই মে মাসে, ডাবলিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। টানা চার ওয়ানডেতে তিনি উইকেটশূন্য। এই বছর ১২ ওয়ানডে খেলে পেয়েছেন মাত্র ৪ উইকেট। বোলিংয়ে সাকিব শিগগিরই নিজের ধারটা দেখাবেন এটাই প্রত্যাশা তামিমের, ‘যখন সাকিব-মোস্তাফিজ বোলিং করে, সবাই চাই প্রতি ওভারে একটা উইকেট পড়ুক। ক্রিকেটে এটা সম্ভব নয়। ভালো-খারাপ দিন থাকবে। যাকে নিয়ে কথা বলছি, সে কিন্তু এক মাস আগেই টেস্টে দুর্দান্ত বোলিং করে দলকে জিতিয়েছে।

No comments :
Write comments

Popular Posts